সিপিএ মার্কেটিং শিখুন

ফ্রিল্যান্সিং তরুণদের মাঝে যতটা আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, আউটসোর্সিং ঠিক ততটাই কোম্পানিগুলোর নির্ভরতা বৃদ্ধি করেছে । কোম্পানিগুলোর সেলস্ এবং মার্কেটিং এখন উন্মুক্ত, অর্থাৎ ফ্রিল্যান্সারদের দিয়ে খুব সহজেই তারা প্রোডাক্ট এর অ্যাডভারটাইজ, সেলস্ এবং লিড জেনারেট করিয়ে নিতে পারে । কোম্পানিগুলো  ডিজিটালাইজড্ হওয়াতে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এই এ্যাফিলিয়েশন প্রোগ্রাম ।

CPA মার্কেটিং কী?

CPA এর পূর্ণরূপ হল Cost Per Action অর্থাৎ আপনার লিঙ্কের মাধ্যমে গিয়ে কেউ নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিলেই আপনার অ্যাকাউন্টে ডলার জমা হবে। পদক্ষেপটি হতে পারে Email submit করা, Zip code submit করা, কিছু Download করা, Survey complete করা, কিছু Order দেওয়া ইত্যাদি। কাজেই অধিকাংশ CPA প্রডাক্ট ফ্রী বলে কনভার্ট এর পরিমাণও বেশি হয়। প্রতিটি কনভার্ট এর জন্য সাধারণত $0.50 থেকে $20 পর্যন্ত পে করে থাকে। তবে বিশেষ কিছু প্রোডাক্টে $250 বা তার চেয়েও বেশি পাওয়া যায়। এ ধরনের মার্কেটিং PPL বা Paid Per Lead মার্কেটিং নামেও পরিচিত।

CPA মার্কেটিং এর কিছু শব্দ পরিচিতি-

Advertiser: এটা হল সেই সাইট বা ব্যক্তি যারা CPA নেটওয়ার্ক এর মাধ্যমে প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের বিজ্ঞাপণ দিয়ে থাকে। হতে পারে সে রিটেইলার, অনলাইন রিটেইলার অথবা মার্চেন্ট।

Publisher: এটা হল সেই ব্যাক্তি বা সাইট যারা কমিশনের জন্য কোন প্রোডাক্ট বা সার্ভিস প্রোমোট করে থাকে। সহজ কথায় এক্ষত্রে আপনি, আমিই সেই পাবলিশার।

PPL (Pay-Per-Lead): সহজ ভাষায় আপনাকে প্রতিটা লিড এর জন্য পে করা হবে।ধরুন- আপনি কোন এডভার্টাইজার এর প্রোডাক্টের বিজ্ঞাপণ আপনার সাইটে ব্যানার হিসাবে রাখলেন। পরবর্তিতে আপনার সাইট থেকে ১০ জন ভিজিটর ঐ বিজ্ঞাপণে ক্লিক করে এডভাটাইজারের সাইটে গেল। এর মধ্যে ধরি ১ জন নাম ও ইমেল এড্রেস দিয়েএকটি ফর্ম পুরন করল। তার মানে আপনি ১টি লিড পেয়ে গেলেন এবং আপনাকে এই ১টিলিডের জন্য পে করা হবে।(এক্ষেত্রে প্রোডাক্ট বা সার্ভিস সেল করা আবশ্যিক নয়, শুধুমাত্র রেজিষ্টেশন নয় ফরম পুরনের জন্য আপনাকে পে করা হবে).

PPC (Pay-Per-Click):  এটা হল সেই কমিশন বা নিদিষ্ট টাকা যা পাবলিশারকে পে করা হয়ে থাকে তার সাইটে থাকা প্রোডাক্টের ব্যানার বা লিঙ্কে প্রতিটা ক্লিকের জন্য। উদাহরন হিসাবে গুগল এডসেন্স এর কথা বলা যেতে পারে।

CPA মার্কেটিং কিভাবে কাজ করে ?

CPA মার্কেটিংকরার জন্য আপনাকে কোন প্রকার বিনিয়োগ করতে হবে না। শুধুমাত্র কোম্পানির মার্কেটিং করার জন্য আপনাকে কমিশন দেওয়া হবে। যেমনঃ আপনার মাধ্যমে কেউ ফর্ম পূরণ করলে, ফর্ম পূরণের জন্য আপনাকে নির্দিষ্ট পরিমাণ কমিশন দেওয়া হবে। অথবা আপনার মাধ্যমে কেউ আমার কোম্পানির গেইম ডাউনলোড করলে কিংবা গেইম খেলার জন্য অ্যাকাউন্ট তৈরি করলে আপনি কমিশন পাবেন। আর এ কারণেই CPA মার্কেটিং অধিক জনপ্রিয় ও আয়ের সহজ মাধ্যম ।

কারা এই পেশায় ভালো করতে পারবে?

মার্কেটিংয়ে কাজ করার প্রতি  যাদের আগ্রহ আছে, ধৈর্য আছে। কারণ অল্পতে ধৈর্য হারালে মার্কেটিংয়ে সফল হওয়া যায় না। যেহেতু সিপিএ মার্কেটিংয়ের পুরো কাজটাই করতে হয় আন্তর্জাতিক ক্লাইন্ট এবং ক্রেতাদের সাথে, সেহেতু অবশ্যই  ইংরেজিতে পারদর্শী হতে হবে। ক্লাইন্ট এবং ক্রেতাদেরকে নিয়ে চিন্তা করার মানসিকতা থাকতে।তাহলেই সিপিএ মার্কেটিংয়ে ভালো করতে পারবে।যারা মার্কেটিংয়ে নিয়ে পড়াশোনা করেছেন বা করেছেন তাদের জন্য কাজটা আরেকটু সহজ হবে। তবে শেখার প্রতি প্রবল ইচ্ছা ও কাজের প্রতি আন্তরিকতা থাকলে যেকোন শিক্ষিত মানুষের পক্ষে এই সেক্টরে ভালো করা সম্ভব।

সিপিএ সেক্টরে সুবিধা ও অসুবিধাগুলো কী কী?

সঠিক প্রশিক্ষণ না পাওয়ায় বাংলাদেশের অনেক  মার্কেটাররা কিছু ভুল পদ্ধতিতে (স্পামিং) কিছু ভুল অফার (স্ক্যামিং) প্রমোট করে থাকে, যার ফলে সাময়িকভাবে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া গেলেও পরবর্তীতে পেমেন্ট না পাওয়া, অ্যাকাউন্ট বাতিল হওয়াসহ নানা ঝামেলার সম্মুখীন হতে হয়। কিছু ভালো নেটওয়ার্ক বাংলাদেশিদের অনুমোদন দেয়া কমিয়ে দিয়েছে। কেউ কেউ বাংলাদেশ থেকে রেজিস্ট্রেশনই করতে দেয় না। ইন্টারনেটের কম গতি এবং গ্রাহক পর্যায়ে অধিক মূল্যের কারণে সবার পক্ষে সিপিএতে আশা সম্ভব হয় না। এছাড়া সর্বজনীন সমস্যা কাজ শেষে টাকা উত্তোলনের মাধ্যম। অনেক নেটওয়ার্কে পেপাল ছাড়া আয়কৃত টাকা গ্রহণ করার কোন মাধ্যম থাকে না। এতে মার্কেটাররা বিপাকে পরে। আরেকটি সমস্যা হল মূলধনের অভাব। সিপিএতে পেইড মার্কেটিং করলে দ্রুত ভালো ফলাফল বা উপার্জন পাওয়া যায়। বিনিয়োগের সমস্যার কারণে অনেককে পিছিয়ে পড়তে হয়। যদিও ফ্রি ট্রাফিকে কাজ করেও অথরিটি বিল্ড আপ করার মাধ্যমে ভালো আয় করা যায়। সুবিধা হচ্ছে, এই সেক্টরের অন্যান্য কাজের তুলনায় এটা একটু সহজ। উপার্জনও ভালো। ইচ্ছা শক্তি ও কাজের প্রতি একাগ্রতা থাকলে অতি দ্রুত সিপিএ মার্কেটার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা যায়। তবে শুরুতে সময় একটু বেশিই দিতে হবে।  নিজের কাজ, নিজের টিম গুছিয়ে নিয়ে আসতে পারলে সময় কম দিলেও হয়। তবে নিয়মিত কাজ করতে হবে অবশ্যই। কাজ শুরু করে বন্ধ করে দেয়া বা প্রস্তুতি না নিয়ে কাজ শুরু করাটা একদমই ঠিক হবে না।

আগ্রহীদের জন্য আপনার পরামর্শ-

নতুনদের বলবো ভালোভাবে বুঝে শুনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করে এই পেশায় আসতে। স্পামিং / স্কামিং করে টিকে থাকা কষ্টকর। আমার মতে, একটি সফল মার্কেটিং ক্যাম্পেইন নির্ভর করে গবেষণার উপর। নতুনরা গবেষণায় সময় না দিয়ে শুরুতে তাড়াহুড়া করে, তাই ভালো উপার্জন পায় না। নিজেকে সব সময় আপডেট রাখার জন্যে প্রতিদিন নির্দিষ্টি একটি সময় করে এ বিষয়ক সংবাদ, মার্কেটিং ফোরাম এবং ব্লগগুলো ঘাটাঘাটি করা উচিত। সৃষ্টিশীল মানসিকতা বিকাশের জন্যে বিশ্বে বড় বড় মার্কেটারদের মার্কেটিং পদ্ধতি, বিজ্ঞাপনের ডিজাইন, কনটেন্টগুলো নিয়মিত দেখতে হবে। সব মিলিয়ে সফল সিপিএ মার্কেটার হওয়ার জন্যে ধৈর্য ধারণ করতে হবে।তাছাড়া সিপিএতে প্রচুর অ্যাডালট/গ্যাম্বেলিং অফার থাকে। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সেগুলো প্রমোট করা থেকে বিরত থাকাই ভালো। ধৈর্য ধরে লেগে থাকলে ওসব অনৈতিক বিষয় ছাড়াই সিপিএ মার্কেটিংয়ে প্রচুর আয় করা সম্ভব। সবশেষে বলব, কাজটাকে ভালোবাসুন আর নিজের কাজে ভরসা রাখুন। সফলতা আসবেই, ইনশাআল্লাহ।

কোথায় শিখবেন সিপিএ(CPA) মার্কেটিং-

বর্তমানে সিপিএ মার্কেটিং শেখায় এরকম অনেক প্রতিষ্ঠান আছে যেখান থেকে আপনি সিপিএ কোর্সটি করতে পারেন। তবে সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে সব ট্রেইনিং সেন্টার সঠিকভাবে টিকে থাকতে পারছে না।  এক্ষেত্রে আপনি ইশিখন থেকে ঘরে বসে অনলাইনে লাইভ ক্লাসের মাধ্যমে সিপিএ কোর্সটি করতে পারেন। কারণ- ইশিখনে রয়েছে দীর্ঘদিন বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস অথবা কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ করছে এমন কিছু প্রফেশনাল ট্রেইনার। ইশিখন থেকে কোর্স করলে যারা হবে আপনার ট্রেইনার। এছাড়াও ইশিখন থেকে কোর্স করলে আপনি কোর্স সম্পর্কিত  অন্যান্য সকল সুবিধাসমূহ পাবেন।

সিপিএ(CPA) মার্কেটিং এর বিশেষ সুবিধা-

  • লাইভ ক্লাস মিস করলে পরের দিন কোর্সের ভেতর উক্ত ক্লাসের ভিডিও রেকর্ডিং ও আলোচিত ফাইল সমুহ পাবেন।
  • লাইভ ক্লাসের সম্পূর্ণ ফ্রি ভিডিও কোর্স, ( শুধুমাত্র এই ভিডিও কোর্সই অনেক প্রতিষ্ঠান হাজার হাজার টাকায় বিক্রি করে।)
  • প্রতিটি ক্লাস শেষে এসাইনমেন্ট জমা দেওয়া। (প্রতিটি এসাইনমেন্ট এর জন্য ১০ মার্ক)
  • প্রতিটি ক্লাসের লাইভ ক্লাসের পাশাপাশি প্রাকটিজ ফাইল পাবেন এবং কনটেন্ট পাবেন।
  • প্রতিটি ক্লাসের প্রথম ১৫ মিনিট আগের ক্লাসের সমস্যাগুলো সমাধান হবে, পরের ১ ঘন্টা মুল ক্লাস শেষ ১৫ মিনিট প্রশ্নোত্তর পর্ব প্রতিটি
  • ক্লাসের শেষে ১০ নাম্বারের মডেল টেস্ট। এই মডেল টেস্ট মার্ক এবং এসাইমেন্ট মার্ক ও নিয়মিত উপস্থিতির উপর ভিত্তি করেই পরবর্তীতে আপনার সার্টিফিকেট এর মান নির্ধারণ হবে।
  • কোর্স শেষে সার্টিফিকেট
  • লাইভ ক্লাস সমুহের ডিভিডি ।
সিপিএ(CPA) মার্কেটিং এ কি কি শেখানো হবে-
  • সিপিএ মার্কেটিং করে কিভাবে আয় করবেন।
  • কিভাবে সেরা সিপিএ নেটওয়ার্ক খুঁজে পাবেন।
  • প্রচার করার জন্য সবচেয়ে লাভজনক সিপিএ অফার পছন্দ করুন।
  • সর্বোত্তম সিপিএ নেটওয়ার্কগুলিতে গ্রহণযোগ্য টিপস
  • অনলাইনে সফল হতে হলে আপনার মানসিক প্রস্তুতি
  • আপনি একটি এক্সক্লুসিভ সিপিএ অফার দেখাবেন কিভাবে?

 

   
   
February 12, 2019 | 2 weeks আগে

0 responses on "সিপিএ মার্কেটিং শিখুন"

Leave a Message

Your email address will not be published.

Varify Certificate

top